দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৮, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ন /
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন

আরিফুল ইসলাম মহিন  : খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার  দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংগঠনটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি জোরদার এবং সকল জাতিসত্তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চৌদ্দটি সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ সম্প্রীতির বন্ধনই এ অঞ্চলের শান্তি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল শক্তি। কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা রোধে সকল নাগরিককে সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে দেশের প্রায় ৫০টি জাতিগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বিতর্কিত সম্বোধন যেমন ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘আদিবাসী’ বা ‘সেটলার বাঙালি’ বাতিল করে স্পষ্টভাবে ‘বাঙালি’ ও ‘অবাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধানের দাবি, ভূমি আইন সংশোধন, সকল জাতির প্রতিনিধির সমন্বয়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন এবং ভূমিহীনদের মধ্যে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।

দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার রক্ষক। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়—

  • পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিকল্পিত বিভাজন রোধ

  • সকল জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা

  • জনসংখ্যা অনুযায়ী সমঅধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত

  • সংসদীয় আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৯ করা

  • স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং মানসম্পন্ন সেবা

  • গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা

  • পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ

এছাড়া, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিট ব্যবস্থা থাকলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্য কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।