খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে খাদ্যশস্য বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

⚽ খেলাধুলা খাগড়াছড়ি সদর গুইমারা দীঘিনালা পানছড়ি বান্দরবান ব্রেকিং নিউজ মহালছড়ি মাটিরাঙ্গা মানিকছড়ি রাঙামাটি রামগড় লক্ষ্মীছড়ি 🎓 শিক্ষা 🏛️ রাজনীতি 💻 প্রযুক্তি 💼 চাকরি
মো: শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া আসাদ, খাগড়াছড়ি জেলা সংবাদদাতাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, আত্মসামাজিক উন্নয়ন ও জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে ৩ হাজার মেট্রিক টনের অধিক খাদ্যশষ্য বরাদ্ধ প্রদান করে। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন, সদস্য ও কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে উক্ত খাদ্য শষ্য বিলিবন্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী সন্তানদের নামেও খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বুয়া প্রকল্প ও বুয়া নাম ব্যবহার করেও খাদ্য শষ্য আত্মসাৎ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের নামে বরাদ্দ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেনই না যে তাদের নামে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ হয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু প্রকল্পে ২০ টন পর্যন্ত চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও প্রকৃত উপকারভোগীরা বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত নন। আবার কোথাও প্রকল্পের আর্থিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা দেখিয়ে বাস্তবে উপকারভোগীদের হাতে সামান্য অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৪ লাখ টাকার সমপরিমাণ সুবিধা দেখিয়ে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় বড় প্রকল্পগুলো চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। অপরদিকে সাধারণ দরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। খাদ্য সহায়তার মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি; কিন্তু অনিয়মের কারণে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা মুঠোফোনে বলেন, ‘‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। আপনার যেহেতু আছেন, বিষয়টি আপনারাই তো দেখবেন।’’
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালীকা ত্রিপুরা জানান, ‘‘ খাদ্যশষ্য সদস্যদের নিয়ে বসে বন্টন করেছি। সদস্যরা জানেন, কে কোথায় বন্টন করেছেন তারাই জানেন।’’
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্পসমূহ, উপকারভোগীদের তালিকা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্যশস্য বিতরণের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তারা বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। (চলমান. . .)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *