
প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জন্য প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এ সমাবেশে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনকালীন আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সমাবেশে খাগড়াছড়ি জেলার পাঁচটি উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য উপজেলা ছাড়াও পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এতে পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক ড. সাইফুর রহমান বলেন,
“খাগড়াছড়ি জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ২ হাজার ৬৩৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি টহল আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও মাঠে থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।”
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পরিচালক জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম আনসার ব্যাটালিয়ন (৩১ বিএন) এর পরিচালক মুনমুন সুলতানা, খাগড়াছড়ি আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক মো. আমমার হোসেন এবং উপ-পরিচালক মো. রুবায়েত বিন সালাম। বক্তারা নির্বাচনী সময়ে আনসার ও ভিডিপির দায়িত্বশীল ভূমিকা ও জনগণের আস্থা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সমাবেশের সার্বিক আয়োজন ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খাগড়াছড়ি জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আরিফুর রহমান। তিনি জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ ও ব্রিফিং পাহাড়ি অঞ্চলে নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আনসার ও ভিডিপির সক্রিয় উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে করবে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য।
আপনার মতামত লিখুন :