
জসীম উদ্দিন জয়নাল : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১১ ও বিনা সরিষা-১৪ জাতের পরিচিতি ও চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ পাড়া এলাকায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র খাগড়াছড়ির উদ্যোগে এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
মাঠ দিবসে বিনা উপকেন্দ্র খাগড়াছড়ির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিগ্যান গুপ্ত সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন বিনা উপকেন্দ্র খাগড়াছড়ির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অং সিং হ্লা মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সেলিম রানা।
মাঠ দিবসে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা বিনা উদ্ভাবিত সরিষার নতুন জাতগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা, জীবনকাল ও লাভজনক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেন।
বক্তারা জানান, বিনা সরিষা-১১ জাতের জীবনকাল মাত্র ৮৫ দিন এবং এর গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১.৮ থেকে ২.১ টন। অপরদিকে বিনা সরিষা-১৪ জাতের জীবনকাল ৭৫ থেকে ৮০ দিন এবং এর গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১.৪ থেকে ১.৬ টন। স্বল্প জীবনকালের কারণে সরিষা কাটার পর একই জমিতে সহজেই বোরো ধানের চাষ করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি লাভের সুযোগ তৈরি করে।
মাঠ দিবসে বক্তারা আরও বলেন, বিনা উদ্ভাবিত এসব জাত চাষের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় উন্নয়ন এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কৃষকদের এসব উন্নত জাত চাষে আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :