
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত হয় ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর আদেশে আইনটি জারি হয়। সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালের ১২ মে। এ আইনের আওতায় তাঁদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়ে থাকে।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী—
মন্ত্রী: ১ লাখ ৫ হাজার টাকা
প্রতিমন্ত্রী: ৯২ হাজার টাকা
উপমন্ত্রী: ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা
সংসদ সদস্য: ৫৫ হাজার টাকা
মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাঁদের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করে।
সরকারি কাজে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি পান। সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকেন।
জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার তেলের সমপরিমাণ অর্থ পান। পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সংসদ সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ পেতে পারেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি বাসভবন পান। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল সরকার বহন করে। সরকারি বাসভবনে না থাকলে—
মন্ত্রী: মাসে ৮০ হাজার টাকা ভাড়া
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী: মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাড়া
সরকারি বাসা সাজানোর জন্য—
মন্ত্রী: বছরে ৫ লাখ টাকা
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী: বছরে ৪ লাখ টাকা
নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়।
সম্মানী ভাতা: মাসে ৫ হাজার টাকা
টেলিফোন ভাতা: মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা
লন্ড্রি ভাতা: মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা
ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ ভাতা: মাসে ৬ হাজার টাকা
সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা পান।
মন্ত্রী: মাসে ১০ হাজার টাকা
প্রতিমন্ত্রী: মাসে ৭ হাজার ৫০০ টাকা
উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য: মাসে ৫ হাজার টাকা
নিজ নির্বাচনী এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ দাতব্য কাজে—
মন্ত্রী: বছরে ১০ লাখ টাকা
প্রতিমন্ত্রী: বছরে সাড়ে ৭ লাখ টাকা
উপমন্ত্রী: বছরে ৫ লাখ টাকা
সংসদ সদস্য: বছরে ৫ লাখ টাকা
এ ছাড়া রয়েছে বার্ষিক ৫ লাখ টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল।
স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—যেমন কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচি—মোট প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প পরিচালিত হয়। এসব কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের মতামত বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
Transparency International Bangladesh (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
আপনার মতামত লিখুন :