ফুলবিজুর মধ্য দিয়ে মহালছড়িতে শুরু তিন দিনব্যাপী বিজু সাংগ্রাই ও বৈসু উৎসব


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ন /
ফুলবিজুর মধ্য দিয়ে মহালছড়িতে শুরু তিন দিনব্যাপী বিজু সাংগ্রাই ও বৈসু উৎসব

 

ছানোয়ার হোসেন : পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ফুলবিজুর মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসু উদযাপন। পাহাড়ি জনপদজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ, যেখানে অংশ নিচ্ছেন সব বয়সী মানুষ।
১২ এপ্রিল রবিবার সকাল ৮.০০ টায় মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি ইউনিয়নের মনাটেক গ্রামে যাদুগানালা মৎস্য লেকে মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি ও মনাটেক কজমা ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা। পরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। এতে শত শত নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি রত্ন উজ্জ্বল চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা। তিনি বলেন, পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করতে এই তিন দিনব্যাপী উৎসব পালিত হয়, যার ধাপগুলো হলো ফুলবিজু, মূলবিজু এবং গোজ্যপজ্য দিন।
বিজু উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ‘পাজন’ নিয়েও আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি ও তরকারি দিয়ে প্রস্তুত এই ঐতিহ্যবাহী খাবারে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ পদের উপাদান থাকে। পাজন ছাড়া বিজু উদযাপন যেন অসম্পূর্ণ—এমনটাই জানান বক্তারা।
পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, খুমি ও ম্রোদের চাংক্রাইসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উৎসবটি বিভিন্ন নামে উদযাপিত হয়। নামের ভিন্নতা থাকলেও উৎসবের মূল চেতনা এক—সম্প্রীতি, আনন্দ ও নতুন বছরের স্বাগত।
উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে তৈরি হয়েছে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। মানুষ অতীতের সব দুঃখ, কষ্ট ও বিভেদ ভুলে নদী বা জলে ফুল ভাসিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করছেন। এই আয়োজন নতুন বছরে সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে আসে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, মহালছড়ির বিভিন্ন মারমা ও ত্রিপুরা অধ্যুষিত এলাকায়ও সাংগ্রাই ও বৈসুর উৎসব ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। পুরো অঞ্চলজুড়ে এখন উৎসবের রঙ, ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে।