পাহাড়–সমতলের বৈষম্য দূর করতে ই-লার্নিং হবে গেম চেঞ্জার: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ন /
পাহাড়–সমতলের বৈষম্য দূর করতে ই-লার্নিং হবে গেম চেঞ্জার: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

 

জসীম উদ্দিন জয়নাল : পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত জনপদে রূপান্তরের লক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন,“ই-লার্নিং শুধু শিক্ষার মাধ্যম নয়; এটি পাহাড় ও সমতলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবধান কমিয়ে আনার একটি কার্যকর ও শক্তিশালী হাতিয়ার।”
৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টার দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাই কমিশনার অজিত সিং (Ajit Singh)–এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাতে বাংলাদেশ–কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষার প্রসারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট (স্টারলিংক বা সমজাতীয় প্রযুক্তি) ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অনলাইনে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঠদান করতে পারছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করছে বলে জানান তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিপুল। এখানকার মানুষ দরিদ্র থাকার কথা নয়। জীবিকার মানোন্নয়নে জুম চাষের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং কফি, কাজু বাদাম ও ড্রাগন ফলের মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করে স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পার্বত্য অঞ্চলকে একটি ইকো-ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা স্পষ্টভাবে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার ও মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
কানাডিয়ান হাই কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রথম সচিব জোসেফ ম্যাকইনটোশ, কনসালটেন্ট এএইচএম মহিউদ্দিন এবং ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার ইয়্যুগেস প্রধানং।