খাগড়াছড়িতে নাগরিক সংলাপ ‘জনগণের মুখোমুখি’, প্রশ্নের জবাব দিলেন সংসদ প্রার্থীরা


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩১, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ন /
খাগড়াছড়িতে নাগরিক সংলাপ ‘জনগণের মুখোমুখি’, প্রশ্নের জবাব দিলেন সংসদ প্রার্থীরা

প্রতিনিধি : “একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই”—এই মূল বক্তব্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী নাগরিক সংলাপ ‘জনগণের মুখোমুখি’। ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৩টায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংসদীয় আসন ২৯৮-এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন।
মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন প্রার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, বিদ্যুতায়ন, পর্যটন বিকাশ, নারী ক্ষমতায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা বিষয়ে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁদের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
পর্যায়ক্রমে বক্তব্যে প্রার্থীরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। খাগড়াছড়িকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও পর্যটনবান্ধব জনপদে রূপান্তরের অঙ্গীকারও তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন— বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভুঁইয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর উশোপ্রু মারমা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাউছার (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও সমীরণ দেওয়ান। একজন প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও, বাকি ১০ জন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণে সংলাপটি প্রাণবন্ত ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
সুজন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন ইউসুফ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। অনুষ্ঠানে সুজনের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।
সুজন নেতৃবৃন্দ জানান, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের সচেতন করা, প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।