এই বিজয় পাহাড়ি-বাঙালি সর্বস্তরের জনগণের . . . ওয়াদুদ ভূইয়া


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ন /
এই বিজয় পাহাড়ি-বাঙালি সর্বস্তরের জনগণের . . . ওয়াদুদ ভূইয়া

নুরশাদ হোসেন বাপ্পী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ নং আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। প্রায় ৯০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তার এ বিজয়কে স্থানীয়রা আখ্যা দিচ্ছেন “পাহাড়ি-বাঙালির ঐক্যের বিজয়” হিসেবে।

১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাহাড়ি ও বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে ছুটে আসেন নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির কাছে। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার নেতৃত্বে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ খাগড়াছড়ি গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাবেক খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম জাহিদ বলেন, “ওয়াদুদ ভূইয়া ভাইয়ের এ বিজয় পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেছেন যে খাগড়াছড়িবাসী উন্নয়ন, শান্তি ও সমঅধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই, যাতে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।”
জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন। ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্ণ মন্ত্রী হলে এসব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নিরাপত্তা জোরদার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য একজন কার্যকর নীতিনির্ধারক দরকার। ওয়াদুদ ভাই পূর্ণ মন্ত্রী হলে পাহাড়ি-বাঙালি সকলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।”
সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন দীপ্ত বলেন, “খাগড়াছড়ি পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি জেলা। সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব। ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্ণ মন্ত্রী হলে পর্যটন, কৃষি, যোগাযোগ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ওয়াদুদ ভূইয়ার এ বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সম্মিলিত অগ্রযাত্রার প্রতীক। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কার্যকর সমাধানের আশায় খাগড়াছড়িবাসী তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালি সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। আমি সকলের ভালোবাসা ও আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই।”
খাগড়াছড়িবাসীর প্রত্যাশা—জনপ্রিয়তার এ ধারাবাহিকতা ও গণসমর্থনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার প্রতি আস্থা রেখে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব প্রদান করবেন, যাতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারেন।