দৃষ্টিনন্দন পানছড়ির মায়াবিনী লেক


admin প্রকাশের সময় : মার্চ ১২, ২০২৪, ৩:৩২ অপরাহ্ন /
দৃষ্টিনন্দন পানছড়ির মায়াবিনী লেক

 

সবুজ পাতার ডেস্ক : চারিদিকে পানিতে ঘেরা আর মাঝে কয়েকটি ছোট দ্বীপ সদৃশ পাহাড় নিয়েই পানছড়ির দৃষ্টিনন্দন মায়াবিনী লেক। পাহাড়ের নিচু ভুমিতে বাধ দেওয়ায় নিম্নাংশে পানি জমায় ছোট পাহাড় গুলো দ্বীপের মতো হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে হয় বাঁশের তৈরী সাঁকো দিয়ে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা থেকে পানছড়ি সড়ক ধরে চৌদ্দ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভাইবোনছড়া বাজার হয়েই এর প্রবেশপথ। সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিটেই সিএনজি, মাহেন্দ্র বা চান্দের গাড়ীতে করে মাত্র ত্রিশ বা চল্লিশ টাকায় আসা যায় মায়াবীনিতে। স্বচ্ছ পানির এই লেকে ভেসে বেড়ায় নানান জাতের দেশীয় মাছ। বাঁশবাগানের পাশাপাশি নানান জাতের আম্রকানন, সেগুন বাগান রয়েছে তার চারিপাশ জুড়ে। ঘুঘু, শালিক, হট টি টি, বকসহ নানান পাখির কলকাকলি আর উড়ে বেড়ানোর দৃশ্যটাও বেশ। গাছে গাছে ঝুলানো রয়েছে সোনামনিদের বিনোদনের দোলনা। দর্শনার্থীর খোরাক দিতে লেকের বুকে ভাসছে বেশ কয়েকটি নৌকা। লেকের বুক চিরে নিজ হাতে বৈঠা মেরে নৌকা চড়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই যেন আলাদা। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে পিকনিক পার্টির আগমনে সকাল-সন্ধা মায়াবিনী থাকে মুখরিত।

কথা হয় পূজগাং মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদের সাথে। তিনি জানান, শব্দ বিহীন নীরব পরিবেশে নিজ হাতে বৈঠা মেরে নৌকা চড়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই সেইরকম। পানছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল ইসলাম মজুমদার জানান, বন্ধের দিনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বার্ষিক বনভোজনে মায়াবিনীর সৌন্দর্য উপভোগে এসেছি। নৌকা ভ্রমনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন দাশ স্যারের গানে গানে বনভোজনটা ষোলআনা পূর্ণ হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় চল্লিশ একর জায়গা জুড়েই লেকটি। লেকটিকে আধুনিকায়ন করে বিনোদন সামগ্রী দিয়ে সাজালে মায়াবিনী হবে জেলার সেরা পর্যটন আকর্ষণ। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি চায় আগত দর্শনার্থীরা। উল্লেখ্য চারিদিকে পানিতে ঘেরা আর মাঝে ছোট কয়েকটি দ্বীপের অপরুপ দৃশ্য দেখে পানছড়ির সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাশেম নামকরণ করেন মায়াবিনী লেক। যা আজ দেশব্যাপী লাভ করেছে ব্যাপক পরিচিতি।