গাজা বিপর্যয় : পশ্চিমা সভ্যতার ভণ্ডামি


admin প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৩, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন /
গাজা বিপর্যয় : পশ্চিমা সভ্যতার ভণ্ডামি

ড. এ কে এম মাকসুদুল হক

ইসরাইলি বিমানবাহিনীর বোমা হামলায় নিহত নিষ্পাপ শিশুসন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিলেন ফিলিস্তিনি যুবক আবদুল্লাহ তাবাস, ‘এ আমার মেয়ে, আমি ওকে শতবার খুশি দেখতে চাই!’ গাজায় বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে কাজ করেন ফিলিস্তিনি নাগরিক ফারেস আকরাম। তিনি ‘এক্সে’ পোস্ট করেন, তার একান্নবর্তী পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরো ১৮ সদস্য বিধ্বস্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। এটা ছিল গত ২৭ অক্টোবরের ঘটনা। গত ২৩ অক্টোবর ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বোমা হামলায় গাজায় ৭০৪ জন নিহত হয়েছেন, যার ৩০৫ জনই শিশু। এসব ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিদিনের সংবাদ হচ্ছে গত ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে।

স্যার জেরাল্ড কফম্যান (Sir Gerald Kaufman), একজন ইহুদি-ব্রিটিশ রাজনীতিক লিখেছেন, ‘১৯৪৮ সালে দিয়ার ইয়াসিনে ইহুদি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ‘ইরগুন’ এবং ‘স্টার্ন গ্যাং’ ২৫৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেছিল’ (ডেইলি স্টার : ২৯/১০/২০২৩)। সেই সাথে ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র এবং ছলচাতুরীর মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে গত ৭৫ বছর ধরে ইহুদিরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল, হত্যা, গুম, কারাবন্দী ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এমনকি ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান ‘মসজিদুল আকসাকে’ও প্রতিনিয়ত অপবিত্র করছে। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা অসহায় হয়ে ইসরাইলি সৈনিকদের ইট-পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ করলে তারা ফিলিস্তিনের বেসামরিক বসতিগুলোতে বিমান হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখায়। পশ্চিমা বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইসরাইলি বিমান হামলাকে বরাবরই ইসরাইলের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ বলে সমর্থন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আরব দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন ঘটিয়েছে। সৌদি আরবও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।

ফলে ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি হারানোর কথা, তাদের নারী-শিশুদের ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নির্বিচারে নিহত হওয়ার কথা পুরো বিশ^বাসী ভুলতে বসেছে। অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জন এবং তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের সব পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতীক সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী ‘হামাস’ দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরাইলের অভ্যন্তরে ঢুকে গত ৭ অক্টোবর হামলা চালায়। অতর্কিত হামলা করে ‘হামাস’ ইসরাইলি সামরিক ও বেসামরিক বহু হতাহতের ঘটনা ঘটায় এবং কয়েক শ’ জনকে বন্দী করে। তারা এই যুদ্ধবন্দী করে ইসরাইলের কারাগারে বিনা অপরাধে, বিনা বিচারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীর সাথে বিনিময়ের উদ্দেশ্যে। ‘হামাস’ প্রায় ১৪০০ সামরিক-বেসামরিক ইসরাইলি হত্যা করেছে গত ৭৫ বছর ধরে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে। সেই সাথে বিশ্ববাসীকে তারা জানাতে সক্ষম হয়েছে যে, ফিলিস্তিনিরা ইসরাইল কর্তৃক জাতিগত নিধনের শিকার। এটা বন্ধ না করলে ফিলিস্তিনিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এভাবেই তাদের প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকবে।

‘হামাসের’ ভয়াবহ আক্রমণের প্রথম প্রহরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে ইসরাইলিরা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর তারা ‘হামাস’ তথা ফিলিস্তিনবাসীর ওপর প্রতিশোধের সংকল্প করে। আর যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ইসরাইলের পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে অদম্য সাহসী ইসরাইল হিংস্র হায়েনার চেয়েও ভয়ঙ্কর অমানবিক হয়ে ওঠে! প্রশ্ন উঠতে পারে ‘হামাস’ও তো মানবিকতা উপেক্ষা করেছে! কথা সত্য। কিন্তু গত ৭৫টি বছর যখন দিনের পর দিন ইসরাইলি সশস্ত্রবাহিনী নির্মমভাবে অসামরিক ফিলিস্তিনি, নিষ্পাপ শিশু, নিরপরাধ নারীদেরকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে; যখন ইসরাইলি বিমানবাহিনী ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে দিন-রাত বোমা বর্ষণ করেছে তখন কি ইসরাইলিরা মানবিক ছিল!

‘হামাসের’ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল গত ২৫ দিন যাবৎ গাজা উপত্যকায় অনবরত বিমান থেকে এবং কামান দাগিয়ে গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে। তিন লাখ ভূমিসেনা গাজা ঘিরে রেখেছে এবং ট্যাংক বহর নিয়ে গাজায় স্থল আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করছে। এ পর্যন্ত প্রায় নয় হাজারের বেশি অসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় চার হাজার শিশু এবং দুই হাজারের মতো নারী। ইউনিসেফের তথ্যমতে, দৈনিক ৪২০টি শিশু হতাহতের শিকার হচ্ছে। সেই সাথে ৬৫ জন চিকিৎসাকর্মী এবং ৩১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। মাত্র ১৪১ বর্গমাইল আয়তনের মধ্যে গাজায় ২৩ লাখ মানুষের বাস। এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ২৫ দিন যাবৎ টানা বিমান হামলা এবং আর্টিলারি গোলাবর্ষণে ভূমিটির অবস্থা কী হতে পারে তা চিন্তাও করা যায় না! একই সাথে গাজায় চালানো হচ্ছে সর্বাত্মক অবরোধ। পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাদ্য, ইন্টারনেট ইত্যাদি সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। আসলে গাজা উপত্যকাকে ২০০৭ সাল থেকেই একটি উন্মুক্ত কারাগার বানিয়ে রেখেছে ইসরাইল।

এতে সরাসরি সহযোগিতা করেছে তাদের মার্কিন দোসর। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (চঅ) দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে ইসরাইলের উৎসাহে গঠিত হয়েছিল ‘হামাস’। পরবর্তীতে ‘হামাস’ ইসরাইলকে ধ্বংস করার কঠোর এজেন্ডা গ্রহণ করলে ফিলিস্তিনিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ২০০৭ সালের নির্বাচনে গাজায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ‘হামাস’কে উল্টো ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। মার্কিনিদের এই সিদ্ধান্ত ছিল চরম হঠকারিতা। নির্বাচিত একটি দলকে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী বলে চিহ্নিত করা তাদের ভণ্ডামিরই প্রতিফলন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করে নিরাপত্তার অজুহাতে, তখন আমেরিকার নেতৃত্বে পুরো পশ্চিমা গোষ্ঠী ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। রাশিয়াকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধে অভিযুক্ত করে এবং ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। অথচ সেই পশ্চিমারাই বর্তমানে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নির্বিচার বোমাবর্ষণে ইসরাইলকে নির্দ্বিধায় সমর্থন দিচ্ছে। মাত্র ২০-২৫ হাজার হামাস যোদ্ধার বিপরীতে যুদ্ধে নেমেছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে নৃশংস বাহিনী ‘ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স’ (ওউঋ)। হামাসের ট্যাংক, বিমান, কামান কিছুই নেই। আছে শুধু হাজার পাঁচেক রকেট। আর ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে সহযোগিতা করছে বর্তমান বিশে^র একমাত্র পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধটা মূলত হচ্ছে নিরস্ত্র গাজাবাসীর বিরুদ্ধে। ইসরাইলের এই যুদ্ধের মিশন হলো গাজাকে জনশূন্য করে তা ইহুদি সেটেলারদের হাতে তুলে দেওয়া। তাদের কাছে ফিলিস্তিনিরা পশুতুল্য। পশুকে যেমন নির্বিচারে হত্যা করা যায় ফিলিস্তিনিদেরও সেইভাবে হত্যা করা যায়!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনই অন্ধভাবে ইসরাইলকে সমর্থন দিচ্ছে যে, ব্রাজিল নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে ইসরাইলি বোমা বর্ষণের সামান্য বিরতির প্রস্তাব তুলেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দিয়ে নাকচ করে দেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুর মিলিয়ে বলেছেন, ‘আত্মরক্ষার পুরো অধিকার ইসরাইলের রয়েছে।’ এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসরাইল সফর করে সশরীরে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে শক্তি ও সাহস সঞ্চার করে এসেছেন। এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছেন, ‘যতভাবে সম্ভব ইসরাইলকে আত্মরক্ষার সাহায্য করবে জার্মানি’ (প্রথম আলো : ২৯/১০/২০২৩)। অথচ গত ২৫ দিনে ইসরাইলি সশস্ত্রবাহিনী প্রায় নয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি হত্যা করেছে যার অধিকাংশই শিশু। উত্তর গাজা শহরকে ধূলির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। একটি হাসপাতালে বোমা ফেলে একসাথে রোগী, শিশু-নারীসহ সাতশতেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। এটাই কি আত্মরক্ষার উপায়!

পশ্চিমাদের এতসব ভণ্ডামির মাঝেও তাদেরই একজন ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’ জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সাহসী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘হামাসের এই হামলা শূন্য থেকে হয়নি। এর পেছনে কারণ রয়েছে। ৫৬ বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা এক অবর্ণনীয় অধিগ্রহণের শিকার। দিনের পর দিন তারা প্রত্যক্ষ করেছে কিভাবে তাদের জন্য নির্ধারিত ভূমি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের দখলে চলে গেছে, কিভাবে দৈনন্দিন সহিংসতা তাদের সন্ত্রস্ত করে রেখেছে, কিভাবে এই অধিগ্রহণের ফলে তাদের অর্থনীতি স্থবির হয়ে রয়েছে। তারা গৃহচ্যুত হয়েছে, তাদের বসতবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ (প্রথম আলো : ২৯/১০/২০২৩)। পশ্চিমাদের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নিউ ইয়র্ক দফতরের পরিচালক ক্রেইগ মখিবার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বেশির ভাগ সরকার এই নৃশংস হামলায় সম্পূর্ণভাবে জড়িত …বরং তারা প্রকৃতপক্ষে সক্রিয়ভাবে হামলায় অস্ত্র সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলের নৃশংসতা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে আড়াল করেছে’ (প্রথম আলো : ০২/১১/২০২৩)। এর আগে ইসরাইলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা জশ পল পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, ‘একপক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন থেকে বাইডেন প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে… এ সিদ্ধান্ত অদূরদর্শী, ধ্বংসাত্মক ও অন্যায্য। আমরা প্রকাশ্যভাবে যে ধরনের মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন দিই, এটা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ ।

প্রকৃতপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমস্যা পশ্চিমা সভ্যতারই সৃষ্টি। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতি, অস্ত্র ব্যবসায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের লালসাই ইসরাইলকে অন্ধভাবে সহযোগিতা দেয়ার কারণ। অন্য পশ্চিমা দেশগুলো আমেরিকার লেজুড়বৃত্তি করে চলছে। পশ্চিমা সভ্যতার আর একটি ভয়ানক বিষবাষ্প হলো বর্ণবাদ। এই বর্ণবাদ ও স্বার্থের লালসার কারণেই তারা বারবার মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই ভণ্ডামির দ্বারাই পশ্চিমারা ২০০১ সালে ‘৯/১১’ এর অপরাধে অভিযুক্ত করে আফগানিস্তানে বিনা প্রমাণে আগ্রাসন চালিয়ে বিশ বছর যাবৎ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৩ সালে ‘ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র’ মজুদের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরাককে ধ্বংস করেছে। আবার মিয়ানমারের জান্তা সরকার যখন ২০১৭ সালে মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগত নিধন করেছে তখন কেবলই ‘লিপ সার্ভিস’ দিয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে মানবাধিকার শেষ হলো বলে পুরো পশ্চিমা সভ্যতা বিস্ফোরিত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমের দেশে দেশে সরকার ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে নামা মানুষকে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অথচ এই সরকারগুলোই বাকস্বাধীনতার নামে তার নাগরিককে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর অধিকার নিশ্চিত করে থাকে। কাজেই গাজা বিপর্যয় স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা সভ্যতা বর্তমানে বর্ণবাদী ভণ্ডদের আখড়া।

(নয়াদিগন্ত থেকে সংগৃহীত)