খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবলে নতুন সম্ভাবনা-দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে তৈরি হচ্ছে প্রতিভা


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ন /
খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবলে নতুন সম্ভাবনা-দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে তৈরি হচ্ছে প্রতিভা

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক: পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত প্রমিলা ফুটবল ট্রায়ালের মাধ্যমে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণীদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে এই ট্রায়ালের উদ্বোধন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নারী ফুটবলার অংশগ্রহণ করেন।
জানা গেছে, মোট ১৯৮ জন খেলোয়াড় এই ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছেন। তিন ধাপে বিভক্ত এ কার্যক্রমে প্রতিটি ধাপে ৬৬ জন করে খেলোয়াড় তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। মাঠজুড়ে তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্য, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচি একটি সুপরিকল্পিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রতি তিন মাস পরপর প্রতিটি ধাপ থেকে ২২ জন করে খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে। প্রথম ৯ মাস শেষে মোট ৬৬ জন খেলোয়াড় পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে ২২ জন সেরা খেলোয়াড়কে বাছাই করে উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কৌশলগত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা, যাতায়াত সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার খেলোয়াড়রাও অংশ নিতে পারেন।
এই কার্যক্রমের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রমিলা ফুটবল দলের কোচ জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা। তার তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়দের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিভা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনেকেই আশা করছেন, এখান থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের খেলোয়াড় উঠে আসবে।