সাধারণ

লামায় কোয়ান্টাম মাতৃমঙ্গল সেবার বাৎসরিক আয়োজনে নারীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ উদ্ভোধন করছেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল

লামা প্রতিনিধি।

লামায় মা-শিশুর মুখরিত উচ্ছাসে পালিত হলো ‘মাতৃমঙ্গল একাত্মায়ন’ মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি:বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় মা-শিশুর মুখরিত উচ্ছ্বাসে পালিত হলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বাৎসরিক অনুষ্ঠান ‘মাতৃমঙ্গল একাত্মায়ন’। সুস্থ সন্তান ও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ ও প্রাণবন্ত ভবিষ্যত প্রজন্ম উপহার দেয়ার লক্ষে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ মাতৃমঙ্গল কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে দু:স্থ গর্ভবতী মা’দের সম্পূর্ণ বিনা খরচে পুষ্টি, চিকিৎসা ও নিরাপদ ডেলিভারি সেবা প্রদান করা হয়। কোয়ান্টামের চিকিৎসা কেন্দ্র শাফিয়ানে অনুষ্ঠিত মাতৃমঙ্গল একাতœায়নে সেবাগ্রহীতা মা-শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্য সহ মোট ৯ শতাধিক নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন। শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম সেন্টারের অর্গানিয়ার কো-অর্ডিনেশন এস এম সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এতে সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস কোম্পানী বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পারভীন আক্তার, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উনু মার্মা, মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মোহরার মাতৃসদন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদা বেগম রোজি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজবিলা ও লামায় মাতৃমঙ্গল কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৫১৩ জন প্রসূতি এই সেবা গ্রহণ করেছেন বলে জানান চট্টগ্রাম সেন্টারের অর্গানিয়ার কো-অর্ডিনেশন এস এম সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে সকল মা’দের উপহার হিসেবে দেয়া হয় শীতের কম্বল। আলাদাভাবে শিশুদের জন্যে ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল বলেন, ‘ত্যাগের মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ লুকিয়ে থাকে। আজকের এই আয়োজন দেখে তা বোঝা যাচ্ছে। কারণ মায়েদের বিপদে-আপদে যে-কোনো সেবা কোয়ান্টাম দিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে এবং বিনা পয়সায়। ‘মাতৃমঙ্গল একাত্মায়ন’ আসা মা-শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকাংশই ছিলেন স্থানীয় অধিবাসী। তাদের একজন খোদেজা বেগম, তিনি অনুভুতি প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমার ছোট সন্তানের বয়স এখন সাত মাস। আমার বাচ্চা যখন পেটে ছিল তখন থেকেই আমি কোয়ান্টামের সেবা নিয়ে যাচ্ছি এবং পুষ্টিকর খাবার আমি এখান থেকে পেয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমার বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক জন্ম নিয়েছে।’ এছাড়া আরো অনুভুতি ব্যক্ত করেন ফুটফুটে শিশু কোলে নিয়ে আসা টঙ্গঝিরি পাড়ার পুস্পিতা ত্রিপুরাও। উল্লেখ্য, কোয়ান্টামের এ মাতৃমঙ্গল কার্যক্রম ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে শুরু হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় অসচ্ছল সুবিধাবঞ্চিত গর্ভবতী মায়েদের গর্ভধারণের ৩ মাস থেকে শুরু করে ডেলিভারির সময় ও সন্তান জন্মের পর ৪০ দিন পর্যন্ত একজন মায়ের সম্পূর্ণ চিকিৎসা, ওষুধ ও পুষ্টিসেবা দেয়া হয়। জন্মের ৪০ দিন পর্যন্ত যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয়ও প্রদান করে কোয়ান্টাম। দুস্থ, বস্তিবাসী, গৃহকর্মী, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এবং অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মুরং, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যাসহ পাহাড়ি বাঙালি প্রতিটি ধর্মের মায়েরা এ সেবার অন্তর্ভূক্ত।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button