সাধারণ

মহালছড়িতে প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

রিপন ওঝা,মহালছড়ি প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রোয়াজা পাড়ার অসহায় এক পরিবারের ৬ জনের মধ্যে ৫জনই শারিরীক প্রতিবন্ধী। বর্তমানে এই পরিবারটি অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। মহালছড়ি জোন কমান্ডার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধী শিশুদের সন্ধান পান এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসার সুবিধার্থে মহালছড়ি জোনের জোন কমান্ডার এর পক্ষ হতে অত্র জোনের লেফটেন্যান্ট মুহতাসিম আহনাফ শাহরিয়ার প্রতিবন্ধী শিশুদের বাবা রিপ্রুসাই মারমার হাতে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য এলাকা মহালছড়ি জোনও সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সাহায্য ও সহযোগীতা করে আসছে। শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। মানবিক সহায়তা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানুষের পাশে দাড়াঁনোর জন্য মহালছড়ি জোনে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। ভবিষ্যতেও মহালছড়ি জোনের এরুপ কার্যক্রম চলমান থাকবে। করোনা মহামারীর মাঝেও মহালছড়ি জোন কর্তৃক এ ধরণের কার্যক্রম গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের জোনের প্রতি তথাপি সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি সাধিত হচ্ছে। মহালছড়ি জোনের লেফটেন্যান্ট মুহতাসিম আহনাফ শাহরিয়ার বলেন, পার্বত্য এলাকায় সাধারণ জনগণের মাঝে মহালছড়ি জোন এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে ভবিষ্যতেও এমন মহৎ উদ্যোগ সবসময় অব্যাহত থাকবে। যদি এই পরিবারের চিকিৎসা জনিত প্রয়োজনে মহালছড়ি জোন সর্বদা পাশে থাকার বিষয়ে আশস্ত করেন। উল্লেখ্যে যে, মহালছড়ি জোনের আওতাধীন এলাকায় বসবাসকারী রিপ্রুসাই মারমা (৪২), পিতাঃ মৃত: কেয়সু মারমা, গ্রামঃ রোয়াজা পাড়া, পোস্ট+থানাঃ মহালছড়ি, জেলাঃ খাগড়াছড়ি এর স্ত্রী আরেমা মারমা (৩৮)। উক্ত দম্পতি দীর্ঘ ২০ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বর্তমানে তাদের ০১ মেয়ে এবং ০৪ ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের প্রথম সন্তান (কন্যা) সানুচিং মারমা (১৯) কে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে। পরবর্তী চারজন ছেলে যথাক্রমে; ১। উচিমং মারমা (১৮) ২। থুইসানু মারমা (১৫) ৩। থুইসাচিং মারমা (১২) ৪। সুইচাচিং মারমা (০৯)। চার ছেলের প্রত্যেকেই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করে। কিন্তু তাদের বয়স ৮-১০ বছর পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে হাত এবং পা সহ শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ পরিবর্তন হতে শুরু করে। প্রথম দুই ছেলে সন্তানের হাত-পা চুপসে চিকন হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তারা কোনরকম নড়াচড়া করতে পারে না। বাকি দুইজনের হাত-পা এখনো যদিও চিকন হয়নি তবে শক্তি কম থাকার কারণে ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারে না। ধারণা করা হচ্ছে ধীরে ধীরে তাদেরও বড় দুই ভাইয়ের মতো বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মহতী পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী সদস্যসহ উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও আলোর ফেরিওয়ালা সামাজিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য মোঃ শাহাদাৎ হোসেন ও ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য অংহ্লা মারমা, কার্বারী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button