আলোচিত সংবাদখাগড়াছড়ি

বিপন্ন প্রাণী বনরুই সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা : বনরুই ইংরেজি প্রতিশব্দ প্যাঙ্গোলিন্স(ঢ়ধহমড়ষরহ)।মালয় ভাষায় বলা হয় ঘূর্ণয়মান বস্তু যা আত্মরক্ষার সময় প্রাণীটি নিজে বলের মত কুঁকড়ে ফেলার অভ্যাসকে ইঙ্গিত করে।

ফোলিডোটা বর্গের যে আট প্রজাতির বর্ম-ঢাকা।দন্তহীন স্তণ্যপায়ীর অস্তিত্ব এ পৃথিবীতে আছে তার একটি প্রাণী বনরুই। একটি পুর্ণবয়স্ক বনরুই লম্বায় সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার (১-৩ ফুট) এবং ৫-২৭ কেজি(১০-৬০)পাউন্ড ওজনে হয়।আবার লেজের ২৬ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার প্রায় (১০-২৮) ইঞ্চি অবধি হয়ে থাকে।
মূখের দিক এবং শরীরের নীচে অংশ বাদে এঁদের সমস্ত শরীর সিমেণ্টযুক্ত একধরনের চুলের সমন্বয়ে বাদামী আঁশ দিয়ে আচ্ছাদিত। নাক সরু ও ছোখা।জিভ লম্বা এবং আঠালো যা ২৫ সেন্টিমিটার (১০) ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
নাকের মত এদের চোখ ও কান সরু।
আচার্যজনক ভাবে বনরুই সামনে নখর পেছনে নখর তুলনায় দ্বিগুন লম্বা।মুখে দাঁত না থাকায় পূর্বে দাঁতহীন স্তন্যপায়ী প্রাণীর দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতো।
এরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মিশ্র চিরসবুজ বনে বাস করে।অত্যন্ত লাজুক ও নিশাচর হওয়ায় প্রাণীটি সহজে চোখে পড়েনা। মাটিতে বসবাস করলেও গাছে উঠতে বেশ ওস্তাদ এরা।অত্যান্ত অলস ও ধীর গতি সম্পন্ন এই প্রাণীটি।সারাদিন গর্তে ঘুমিয়ে কাটায় রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয় এরা।উইপোকা ও পিঁপড়া এঁদের মূল খাদ্য।

লেজটি কোন গাছের ডালে জড়িয়ে দিব্যি থাকতে পারে।বিপদ দেখলে সামনে দু-পায়ের ভেতর মাথাটা ডুকিয়ে লেজ দিয়ে পুরো দেহ ডেকে বলের আকৃতি হয়ে শত্রুর হাত হতে নিজেকে আত্নরক্ষা করে।মাংসের জন্য শিকারের কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বনরুই বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।বাংলাদেশে ও এর কোন ব্যতিক্রম নয়।

অসাধু ও ভন্ড কবিরাজরা এঁদের কাছ থেকে তথাকথিত ঔষুধ তৈরীর কারণে প্রাণীটি মহাবিপন্ন হয়ে পড়েছে।কাজেই এদের সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button