পার্বত্য অঞ্চলবান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সৃজিত বাগানের গাছ জোর করে কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

লামা  প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সামশুল আলমের সৃজিত বাগান থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার গাছ জোর পূর্বক কেটে নিয়ে গেছে সাইন্টিফিক প্লান্টেশন এন্ড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, জনৈক মিজানুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং বন বিভাগের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। বুধবার দুপুরে লামা রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন, মরহুম চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলমের বড় ছেলে আলী হায়দার মানিক। বাগান থেকে জোর পূর্বক গাছ কেটে পাচার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগের প্রতি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবী জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আলী হায়দার মানিক আরো বলেন, উপজেলার ফাইতং মৌজায় ৮টি জি হোল্ডিং মূলে ৩৯.২৩ একর তৃতীয় শ্রেণীর জমি রয়েছে। এ জায়গায় ২০০৯ সালে বিভিন্ন বনজ ফলজ বাগান সৃজন করে ভোগ করে আসছেন মরহুম চেয়ারম্যানের পরিবার। ২০২১ সালের প্রথম দিকে সাইন্টিফিক প্লান্টেশন এন্ড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, জনৈক মিজানুর রহমান ও হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাগানের মূল্যবান গাছ জোর পূর্বক কেটে পাচার করতে থাকে। এ বিষয়ে মরহুম সামশুল আলম বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ধারায় মামলা করেন (মামলা নং মিস সি আর১১/২০২১)। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উভয় পক্ষের প্রতি স্থীতাবস্থা জারি করলে গাছ কাটা সাময়িক বন্ধ থাকে। এ মামলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন সরেজমিন তদন্ত করে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিপোর্ট প্রদান করেন। ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী আদালতে প্রদত্ত রিপোর্টে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেন বিরোধীয় জায়গাতে সামশুল আলমের দীর্ঘদিনের ভোগ দখল থাকায় সোমলেহ উদ্দিন (বিবাদী) ও মিজানুর রহমান গং জায়গায় প্রবেশ করলে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর থেকে মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পর্যায়ক্রমে ৪০ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মোসলেহ উদ্দিন ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা করেন আলী হায়দার মানিক গংরা। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য লামা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। এরপরও অভিযুক্তরা অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিয়ে জোর পূর্বক গাছ কেটে ইটভাটায় পাচার অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া মোসলেহ উদ্দিন ও মিজানুর রহমান গং সংঘবদ্ধ চক্র সৃষ্টি করে বাগানের অবশিষ্ট গাছও লুটপাটের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সামশুল আলমের সৃজিত বাগান থেকে জোর পূর্বক গাছ কেটে পাচার কাজ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগের প্রতি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবী জানান ভুক্তভোগী আলী হায়দার মানিক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সহ ধর্মিনী জহুরা খানম, ছেলে জুলফিকার হায়দার ও নিলুফা ইয়াছমিন মুক্তা।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button