পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও সুস্থ ধারার বিকাশে বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগ: ‘সেমাল কার্বারী মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’ এর জমকালো উদ্বোধন


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন /
পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও সুস্থ ধারার বিকাশে বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগ: ‘সেমাল কার্বারী মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’ এর জমকালো উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্টঃ

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখতে এবং দুর্গম পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিলাইছড়ি জোন এর আওতাধীন যমুনাছড়ি পাড়া এলাকায় অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ‘সেমাল কার্বারী মেমোরিয়াল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে যমুনাছড়ি পাড়া স্থানীয় মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম খেলায় শক্তিশালী টাইগার ক্লাব এবং লায়ন ক্লাব একে অপরের মুখোমুখি হয়। মাঠজুড়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য এবং কয়েক শ’ স্থানীয় ফুটবল প্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি জোনের প্রতিনিধি মেজর মো. আদনান ইসলাম। এছাড়াও স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর মো. আদনান ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিনোদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই পাহাড়ের প্রতিটি যুবক মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে থাকুক এবং খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ ও সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলুক।”

 

বিলাইছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে পাহাড়ের তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। স্থানীয় পাহাড়ি যুবকদের সুস্থ ধারার বিনোদনে উৎসাহিত করতে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতেই এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিলাইছড়ি জোনের পক্ষ হতে টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

 

সেনাবাহিনীর এই মহতি উদ্যোগ স্থানীয় পাহাড়ি জনপদে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, সেনাবাহিনীর এই ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়া বান্ধব কর্মকাণ্ড পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কাজ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।