ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে দুর্ভোগ

গাজীপুরের একটি কারখানায় ফিনিশিং আয়রনম্যান পদে চাকরি করেন মো. মনজুর আলী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়েছিলেন নিজ বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া সবজপাড়া গ্রামে। গতকাল শুক্রবার খবর পান, তাঁর কারখানায় কাজ হতে পারে। এ জন্য রাত ১১টায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কর্মস্থলের উদ্দেশে। পদে পদে ভোগান্তি তাঁর সঙ্গী হয়।

মনজুরের ভাষ্য, প্রথমে তিনি একটি অটোরিকশায় ৬০ টাকার ভাড়া ৯০ টাকা দিয়ে কিছু দূর আসেন। সেখান থেকে একটি ট্রাকে ১২০ টাকার ভাড়া ১৮০ টাকা দিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকেন। এরপর একটি বাস পান। বাসটি ঢাকায় যাওয়ার কথা। পথে তিনি চন্দ্রাতে নামবেন। এ জন্য ৯০০ টাকা ভাড়া মেটান। কিন্তু সুযোগবঞ্চিত হন তিনি। বাসটির সুপারভাইজার মির্জাপুর-উয়ার্শী-বালিয়া রোড দিয়ে সাভার যাওয়ার কথা বলে তাঁকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের চড়পাড়া এলাকায় নামিয়ে দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তিনি অন্য কোনো যান না পেয়ে হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

মনজুরের সঙ্গে একই বাসে আসেন গাজীপুরের ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রংপুরের পাগলাপীর গ্রামের হামিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী গাজীপুরের একটি কারখানার শ্রমিক মাহামুদা আক্তার। তাঁদের ভাষ্য, কর্মস্থলে থাকলে হয়তো কোনো কাজ পাবেন। এই আশায় রংপুর থেকে ওই বাসে জনপ্রতি ৭০০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে ওঠেন। অন্য সময় এই ভাড়া ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। তাঁদেরও চড়পাড়াতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য যানবাহনের আশায় তাঁরা থামেননি। বাস থেকে নেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

এ চিত্র করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পোস্টকামুরী চড়পাড়া ও মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল সোয়া আটটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল সোয়া আটটার পর থেকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি ও হালকা বৃষ্টি। বৃষ্টির মধ্যেই মোটরসাইকেলে চেপে ঢাকামুখী হয়েছেন অনেক যাত্রী। ঢাকার দিকে প্রতি মিনিটে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল চলছিল। মহাসড়কে অবস্থানকালে কোনো বাস দেখা যায়নি। পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছিল। এর সংখ্যা প্রতি দুই মিনিটে দুই থেকে তিনটি। খালি পিকআপ ভ্যানে যাত্রী দেখা যায়। যানবাহন দ্রুতগতিতে চলছিল। হেঁটে চলছিলেন অনেকে।

মো. মনজুর আলী বলেন, ‘কান্দে ব্যাগ আর আতে (হাতে) মালের বস্তা। হেই নিয়া ক্যাল রাত্রে ১১টায় রওনা হইছি। খুব তাড়াতাড়ি আইছি। বাড়ির কাছ তিন-চার কিলোতে একটা অটোতে। আবার আরেক অটোতে তিন-চার কিলো। তারপর গাড়ি পাইছি। হেরপর গাড়ি পাইছি। গাড়িতে আইয়াও তো অফিস পাইলাম না। আইজ তো অ্যাবসেন করলাম। গাড়ি আমাগো নামিয়া পালাইলো।’

হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইছি। যদি খোন কাজ পাওয়া যায়। বাঁচন লাগলে তো নিজেরই কাম কইর্যা খাওনা লাগবো। কেউ খাওয়াইলে দিনে এক বেলা দিবো। অন্য দুই বেলা তো আর কেউ দিবো না।’

মির্জাপুর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে বাস চলছে না। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। পুলিশ লকডাউন সফল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।