আলোচিত সংবাদখাগড়াছড়িখেলাধুলাজাতীয়পার্বত্য অঞ্চলসারাদেশ

খাগড়াছড়ির দুই ত্রিপুরা শিশুর স্বর্ণপদক জয়

পিতৃহারা অনিতার জন্য সহযোগিতা কামনা

 

মিলন ত্রিপুরা : বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত “জাতীয় শিশু পুরস্কার” প্রতিযোগিতায় গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘ লম্ফ/লং জাম্প (বালিকা) ইভেন্টে অনিতা ত্রিপুরা এবং তবলায় অর্নব ত্রিপুরা সারা দেশের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যদের সাথে তাদের হাতে এ মেডেল তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
এর আগে আন্ত:স্কুল, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে অনিতা। সারা দেশের বিভাগীয় সেরাদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলায় ২য় স্থানে রাজশাহী বিভাগের জান্নাতুল আক্তার জেরিন এবং ৩য় স্থানে খুলনা বিভাগের আসমা তাব্বাসুম।

অনিতা মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউপির তাকারমনি পাড়ার দিনমজুর বিধবা কুবালা ত্রিপুরার ছোট মেয়ে। অনিতা ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট। গোমতি বিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে সে। তার বয়স যখন সাত মাস তখন তার বাবা মারা যান। রোগে ভোগে নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে সকল সহায় সম্বল হাতছাড়া হয়ে মারা যান অনিতার বাবা। বিধবা মায়ের আঁচল আঁকড়ে আজ এ পর্যায়ে অনিতা। তার চিন্তা বর্ষা এলেই আবার ভিজতে হবে মায়ের সাথে। কারন তাদের ঘরের যে ফুটো টিন/ভাঙা চাল। তাই অনিতার ঘরের চাল/ছাউনি মেরামতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি তার।

অপর মেধাবী ছাত্র অর্নব ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একই শ্রেণীর ছাত্র। সে এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রিয় বসু ত্রিপুরার সন্তান।
অনিতার মা কুবালা ত্রিপুরার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, “চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর অর্থাভাবের সাথে সাথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকের অভাবে মেয়েকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

সাংবাদিক দেব প্রসাদ ত্রিপুরা এবং জুলহাস উদ্দিন আমাদের ঢাকায় নিয়ে গেছেন এবং যাবতীয় সহযোগিতা করেছেন। তাই তাদের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি।”

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button