রামগড়ে ইমামকে লাঞ্ছিতের পর এবার কক্ষে তালা

রামগড় অফিস:
রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের অফিস স্টাফ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর খবর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মসজিদের মাইকে প্রচার করায় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এসএম ফয়সাল এর হাতে মসজিদের ইমাম মাওলানা এমদাদুর রহমান (মামুন) লাঞ্ছিত হওয়ার ছয় দিনের মাথায় ইমামের কক্ষে এবার তালা লাগিয়েছে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

বুধবার যোহরের নামাজের পর আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে ইমামের অনুপস্থিতে ইমামের জন্য নির্ধারিত ঘরে ইমামের তালার পাশাপাশি আরেকটি তালা লাগিয়ে দেন কৃষি গবেষণার সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম।

মাওলানা ইমদাদুর রহমান মামুন বলেন, যোহর নামায আদায় করে দুপুরের খাওয়ার খেতে বাহিরে যাই। এসময় আমার জন্য নির্ধারিত রুমে তালা লাগিয়ে দেন সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। এর আগে গতকাল মাগরিব নামাযের পরপরই উক্ত কর্মকর্তা আমাকে এশার নামায থেকে মসজিদে আসতে নিষেধ করেন। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন মহাপরিচালকের নিষেধ আছে। আমি কথাটি রেকর্ড করতে চাইলে তিনি মহাপরিচালকের নাম আর বলেননি। চলে যাওয়ার জন্য সময় চাইলে তিনি কোন সময় দেয়া হবেনা বলেও জানান।

তিনি আরো জানান, গত কয়েক মাস পূর্বে কৃষি গবেষনায় কর্মরত বৈজ্ঞানিক সহকারী মোহাম্মদ করিম মন্ডল মারা যাওয়ার পর তাকে আমি গোসল ও জানাজা ব্যবস্থা করি এবং তার গ্রামের বাড়িতে লাশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কারণে গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. এসএম ফয়সাল আমাকে প্রকাশ্যে অর্কথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, কেন আমি করিম মন্ডলকে গোসল করালাম কেন এম্বুলেন্স ঠিক করলাম। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের আরেকজন অফিস স্টাফ মুজিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে আমি তার মৃত্যুর সংবাদটি মসজিদের মাইকে প্রচার করি। কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ড. এসএম ফয়সাল আমাকে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে বৈজ্ঞানিক সহকারী হাসান, গাড়ির ড্রাইভার মোস্তাফা ও ক্যাশিয়ার সেলিম এর উপস্থিতিতে বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালমন্দ করেন, আমি কেন মুজিবুরের মৃত্যুর খবর মাইকে প্রচার করলাম, আমি এবিষয়ে ভুলক্রটি হলে তার কাছে মাফ চাইলাম, তবুও তিনি আমার সাথে খারাপ আচারণ করেই যাচ্ছেন, তিনি আমার মুখের দাঁড়ি নিয়েও কটাক্ষ করেন। যে ভাষায় তিনি আমাকে গালিগালাজ করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না, এত বড় অফিসারের মুখে এসব ভাষা মানায় না। ড.এসএম ফয়সাল মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগদানের পর থেকেই আমাকে অপমান অপদস্ত করে আসছেন, বার বার হুমকি দিচ্ছে আমাকে মসজিদ থেকে চাকুরীচ্যুত করবেন।

এবিষয়ে জানতে রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ইমামকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে দোষীদের বিচারের দাবীতে রামগড় ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদ গত ৫ সেপ্টেম্বর রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে এবং কৃষি গবেষণার মহাপরিচালক বরাবরে স্মারকলিপি  পেশ করেছেন।

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 2 =