’৭১ এ কুকিবাহিনীর শিকার স্বামী পরিত্যক্ত-গৃহহীন পুশুমা মগিনী

খাগড়াছড়িতে সরকারী ঘর-(৩)

দেব প্রসাদ ত্রিপুরা ঃ ভাংগা ঘর। ভাংগা বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ভেতরে কি কি আছে। চালের ছিদ্র দিয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। সরকারী বয়স্ক ভাতাই একমাত্র আয়ের উৎস।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষিতা এক হতভাগা স্বামী পরিত্যক্তা পুশুমা মগিনীর কথাই লিখছি। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের খ্যাংডং পাড়ার বাসিন্দা তিনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর অন্যতম দোসর কুকি বাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে ধর্ষিত হন পুশুমা মগিনী। সন্তান জন্মদানের একদিন পরেই এই গণধর্ষনের শিকার হন তিনি। গনধর্ষনের কারনে কিছুদিনের মধ্যে জরায়ুর সমস্যা দেখা দেয়। ধর্ষিতা স্ত্রীর সাথে ঘর করবেন না এমন অভিমানে স্বামী সন্তানসহ পুশুমাকে রেখে অন্যত্র চলে যায়।
একে ধর্ষিতা-আবার জরায়ু সমস্যার কারনে অনেক মানুষ পুশুমাকে কাজও দিতে চাইতো না। বেশির ভাগ মানুষই কাছে গেলে তাড়িয়ে দিত তাকে। এভাবেই কালক্রমে খেয়ে না খেয়ে বড় হয় পুশুমার একমাত্র কন্যা।


একসময় মেয়ের বিয়ে দেন। ছোট ছোট ৪ সন্তান রেখে অকালে মারা যান জামাতা। সাগরের মাঝখানে খেয়া নৌকার বৈঠা হারানোর মতো অবস্থা পুশুমার। মা-মেয়ে মিলে কখনো ভিক্ষা করে, কখনো দিন মজুরী, কখনো অন্যের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করে লালন পালন করতে থাকেন জামাতার রেখে যাওয়া ৪ সন্তানকে। ২ সন্তানের বিয়ে দিয়েছেন। বয়সের ভারে পুশুমা মগিনী এখন কারো কোন কাজ করতে পারেন না। মেয়ের ঘাঁড়ে পুশুমা এখন ভীষন বড় বোঁঝা হয়ে আছে। তাই ক্ষনে ক্ষনে মুত্যু কামনা পুশুমার। আমাদের সমাজে এমন হাজারো পুশুমা গুমড়ে কাঁদে নিভৃতে। এমন পুশুমারা কি সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে একটু ঠাঁই পেতে পারেন না ? পুশুমার মতো ভাংগা ঘরের নিবাসী অসহায়দের কিছু চিত্র আমরা আজ তুলে ধরছি।

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve − 8 =