খাগড়াছড়িতে সরকারী ঘর -(১) বহু অসহায় গৃহহীন জানেই না এ প্রকল্পের বিষয়ে

দেব প্রসাদ ত্রিপুরা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রায়ন প্রকল্প/ গৃহায়ন প্রকল্পের আওতায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে সারাদেশের হাজার হাজার গৃহহীন অসহায় মানুষ আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। দু’হাত তুলে প্রার্থনা করছেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ প্রশংসায় ভাসছে দেশ বিদেশে।
তবে পশ্চাদপদ পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়িতে অনেক গৃহহীন খেঁটে খাওয়া অসহায় দীনহীন মানুষ এখনো জানেই না সরকারী এই ঘর দেওয়ার মহতি প্রকল্পের কথা। আবার অনেকে জানলেও ‘‘৩০-৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া ছাড়া পাওয়া যায় না এই সরকারী ঘর’’- এমন জনশ্রুতিতে বিশ^স্ত হয়ে আর এগুতে চায় না। এধরনের অসংখ্য ব্যক্তি/ পরিবারের বাস খাগড়াছড়িতে।
এমনি একজন রং চা বেঁচে জীবিকা নির্বাহকারী স্বামী পরিত্যক্তা মাধুরী মারমা। খাগড়াছড়ি সদরের আপার পেরাছড়া এলাকার ৫২ বছর বয়সী এই নারী জানেই না সরকারী ঘর পাওয়া যায়। ৩ সন্তানসহ ২৫-২৬ বছর পূর্বে অন্যত্র চলে যায় স্বামী উষা মারমা । এরপর ভাংগা ঘরে থেকে দিনমজুরী করে কখনো খেয়ে বা না খেয়ে সন্তানদের লালন পালন করতে থাকেন একাই। একসময় স্বামীর রেখে যাওয়া ভাংগা ঘরটুকুও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ঠাঁই হয় ছোট ভাইয়ের পরিত্যক্ত ঘরে। এখনো ২ সন্তান নিয়ে এখানেই থাকেন মাধুরী। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। দীনহীন এই মহিলার কন্যা কলি মারমাকে ইতিহাসে অর্নাস পাস করিয়েছেন রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ থেকে। ছোট ছেলে মংশিথোয়াইকে মাধ্যমিক পাসের পর আর পড়ানো সম্ভব হয়নি। মাধুরী জানান, চোখের ঝাঁপসা দেখা সমস্যায় বেশ কয়েক বছর যাবত দিনমজুরী করতে পারেন না। পার্শ^বর্তী পেরাছড়া হাটে রাস্তার ধারে রং চা বিক্রি করেই উদরপূতির কাজ চলছিল। করোনার কারনে লকডাউনে রং চা বেচাও বন্ধ। কোন সরকারী সাহায্য সহযোগীতাও পাইনি।’’
অপরজন হ্লাম্রাসং মারমা। খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি কংচাইরী কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা। যার স্বামী মৃত আথুইমং মারমা। ৪ বছরের এক কন্যাসন্তান তার। বাবার কাছে পাওয়া এক চিলতে জমিতে কুড়েঁঘর বানালেও সেখানে থাকা হয় খুব কম রাতেই। কারণ ঘরটি একেবারে জীর্ণ। ভয়ে রাতে থাকতে পারেন না বিধায় মায়ের ঘরে গিয়ে রাত কাটায়। এই বিধবা মহিলা ইউপি চেয়ারম্যানের দরজায় বহুবার গেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের চাহিদা মেটাতে না পারায় সরকারী ঘর জুটেনি তার কপালে।
শালবন গ্রামের বিধবা ছখিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে একটি বসতঘরের আশায় কিন্তু কোন কাজও হয়নি। ঘরের চালের ঢেউটিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি পড়ে। ২ বছর গত তিনি স্থানীয় সাংসদের সুপারিশ নিয়ে ঢেউটিনের আশায় খাগড়াছড়ি সদর নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছিলেন কিন্তু কোন টিন পাননি তিনি। তাই কাউকে দেখলেই অঝর নয়নে কাঁদেন।
অপরদিকে একই গ্রামে মৃত মোহাম্মদ আলীর মা নুর জাহান বেগম। প্রতিবন্ধি মোহাম্মদ আলী মারা গেছে ৭ বছর পূর্বে। মোহাম্মদ আলীর ভিক্ষা ভিত্তির টাকায় চলত তাদের সংসার। নুর জাহান বেগমের শালবন গুচ্ছ গ্রামে একখানা রেশন কার্ড ছিলো তাও বেহাত হয়ে গেছে। নুর জাহান বেগমের প্রতিবন্ধি একটি কন্যা সন্তান ও একটি প্রতিবন্ধি নাতিন রয়েছে। তার নিজের কোন বসতঘর বা জায়গা জমিও নেই। আয় রোজগারের কেউ নেই। অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করে দিনাতিপাত করে।
মাধুরী-হ্লাম্রাসং, ছখিনা বেগম ও নুর জাহান বেগমের মতো অসংখ্য পরিবারের বাস খাগড়াছড়িতে। এদের মতো কিছু অসহায় পরিবারের চিত্র তুলে ধরছি :-

খাগড়াছড়ি-সদর-ইউপির-নুনছড়ি-কংচাই-কারবারী-পাড়ার-বিধবা-গৃহহীন-হ্লাম্রাসং-মারমা।.

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + 3 =