নির্বাচনী জনসভায় শোকাবহ পরিবেশে হেলাল শেষ  রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জনগণের পাশে থাকবো

শ.ম.গফুর,উখিয়া,কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর (রবিবার) বিকাল ৩টায় উখিয়ার পাতাবাড়ি খেলার মাঠে বিশাল নির্বাচনী শেষ জনসভায় মেম্বারপ্রার্থী ও মরহুম মৌলভী বখতিয়ার আহমদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেছেন, আমার মরহুম পিতা মৌলভী বখতিয়ার আহমদ দীর্ঘদিন কুতুপালং ৯নং ওয়ার্ডের জনসাধারণের সেবা করে গেছেন। আমিও তাঁর সন্তান হিসেবে আপনাদের কথা দিচ্ছি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এলাকার মানুষের সেবা করে যাবো। আমার মরহুম পিতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাজাপালংয়ের ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে আপনাদের দোয়া, সমর্থন নিয়ে সদস্য প্রার্থী হয়েছি।

তিনি এসময় উপস্থিত জনসমুদ্রে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেছেন, অতীতে আমার পিতা আপনাদেরকে যেভাবে পাশে পেয়েছিলো, ঠিক তেমনিভাবে আগামীতেও আপনাদের সবাইকে পাশে পাবো এই আশা করছি আমি। আপনারা সবাই মহান আল্লাহর কাছে আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমরা ধৈর্য্য ধারণ করে এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারি।আমি অকালে বাবা হারিয়েছি,আমার ভাই-বোন এতিম হয়েছে।আমার মাতা বিধবা হয়েছে।আপনারাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক। আপনাদের ছাঁয়ায় থেকে বাকী জীবন টুকু
আপনাদের গোলামী করে কাটাতে চায়ই।আপনারা ২০ অক্টোবর সে সুযোগটুকু আমাকে দেবেন।চরম হতাশায় নিমজ্জিত।এই হতাশা কাটিয়ে তোলার দায়িত্ব আপনারা ৯ নং ওয়াডর্বাসিকে নিতে হবে।আশা করি মোরগ প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আমার পরিবারের হতাশার ভাগী হয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতায় বাধিত করবপন।

হেলাল এ সময় আরো বলেন, আপনারা সকলেই জানেন, আমার পিতা সবসময়ই পাতাবাড়ি, শৈলাডেবা, কুতুপালংবাসীর পাশে থেকে সেবা করে গেছেন। ২০১৭ সালে যখন আমার আব্বা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন, তখন থেকে আমি ওনার হয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছি।হেলাল বাবার কথা স্নরণ করতে গিয়ে বার-বার কান্নায়  ভেঙে পড়েন।তাঁর ক্রন্দনে পাতাবাড়ির চতুরপাশের আকাশ-মাটি ভারী হয়ে উঠে।

বিশেষ করে সরকারের নানা সহযোগিতা (ভিজিডি, ভিজিএফ, ১০ টাকার চাল, বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, নগদ টাকা বিতরণ) ও উন্নয়নমূলক কাজ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করে এসেছি। সর্বোচ্চ সততা বজায় রেখে এই কাজ গুলো করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে এই ওয়ার্ডের প্রায় ১৬০০ জনের মতো সরকারের খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় হাজার খানেক পরিবার নগদ অর্থ সহায়তা বিভিন্ন এনজিও থেকে পেয়েছে। যা খুব সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি বিতরণ অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থেকে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এসব কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে পেরেছি। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নেও পাশে থেকেছি। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগেও অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করেছি।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা কর্মকান্ড, সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে কর্মকান্ড সম্পাদনসহ জনগণের পাশে থাকতে পারি এরকম সকল কিছুতেই আমাদের পরিবারের ভূমিকা ছিলো অগ্রগামি। যে যখন গিয়েছে, সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এসব কাজ করতে গিয়ে ৯নং ওয়ার্ডের প্রতিটা পাড়ায়-মহল্লায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। সবার সাথে একটা আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমার পরিবার গত ২৫ বছর যাবত ৯নং ওয়ার্ডবাসীর পাশে ছিলো। সকলের বিপদে-আপদে আমাদের কাছে এসে কেউ নিরাশ হয়নি। বরং যতটুকু পারি পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

সভায় বক্তব্য রাখেন, পাতাবাড়ি এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি হাফেজ আলী আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী বিএম টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিলন বড়ুয়া, নাইক্ষংছড়ির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, শৈলারডেবা এলাকার মুরব্বি বিনয় বড়ুয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ, সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা রজত বড়ুয়া রিকু, উপজেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মাসুম আমিন শাকিল, সন্তোষ বড়ুয়া, মৌলভী বখতিয়ার আহমদের সহধর্মীনি শাহিনা আকাতার, বড় ছেলে বোরহান উদ্দন সহ স্থানীয় মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − fourteen =