খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি-(৩) ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দাবী খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের

সবুজ পাতার ডেস্ক : খাগড়াছড়িতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হলেই ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় হয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের। দিনের পর দিন এ অনিয়ম চলে আসলেও এলাকার সাধারণ মানুষের ধারনা যে, প্রতিনিয়ত এভাবেই বিদ্যুৎ অফিসে টাকা দিতে হয়।
খাগড়াছড়ি সদরের পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আপার পেরাছড়া এলাকার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয় গত ১২ জুন রাতে। পরদিন ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী অনুতোষ চাকমার নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি টিম বিদ্যুৎ অফিসের গাড়ী নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দু’এক দিনের মধ্যে কারেন্ট পেতে হলে বর্তমান সাইজের ট্রান্সফরমারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আরো বড় ট্রান্সফরমারের জন্য ৩৫ হাজার টাকা অফিস খরচ এবং সাথে আরো চা-নাস্তা বাবদ ৪-৫ হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়ে আসেন অথার্ৎ সবমিলে ৪০ হাজার টাকা। তখন বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন আরো হুমকি দিয়ে আসেন টাকা না দিলে ট্রান্সফরমার লাগাতে ২-৩ মাস অথবা আরো বেশী সময় লাগতে পারে।
নিরুপায় হয়ে এলাকার লোকজন টাকা সংগ্রহে নেমে পরে। কিছু টাকা সংগ্রহ হলেও অনুতোষ গংদের দাবীকৃত পুরো ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহে ব্যর্থ হয় খেটে খাওয়া গরীব আপার পেরাছড়াবাসী।
ফলে বৃহস্পতিবার বিকাল বেলায় আপার পেরাছড়া বাজার এলাকায় ট্রান্সফরমারের জন্য টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেউ দিয়েছে/ কেউ দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিাতিতে প্রতিবেদক সেখানে পৌছলে সান্তনা দিয়ে হট্টগোল থামিয়ে জানার চেষ্টা করেন। এসময় শতাধিক এলাকাবাসী একযোগে বিদ্যুৎ অফিসের এ ঘুষ দাবীর বিষয়ে বিস্তারিত বলেন।
এলাকাবাসীদের মধ্যে সমর দে, রন্টু মারমা, ক্যউ মারমাসহ অনেকেই বলেন,‘‘ পাশর্^বর্তী বটতলীর লোকজন কিছুদিন আগে ২৫ হাজার টাকা এবং তেতুলতলা এলাকার লোকজন ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমার ঠিক করেছেন। এজন্য আমরা মনে করেছি এটি সরকারী টাকা। তাই দেওয়ার জন্য টাকা তুলছি কিন্তু আমাদের এলাকার লোকজন বেশী গরীব । এজন্য বিদ্যুৎ অফিসকে দিতে ৪০ হাজার টাকা জমা করতে পারছি না।’’
৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবীর বিষয়ে জানতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুতোষ চাকমার ০১৮৩৮৪৮৪৫৩৮ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অনুতোষ চাকমার ৪০ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়ে নিবার্হী প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,‘‘ ট্রান্সফরমার স্থাাপন/প্রতিস্থাপনে কোন সরকারী ফি নাই। তবে বাইরের লোক দিয়ে লাগালে হাজার পাঁচেক খরচ হয়।’’
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের এ স্বর্ণযুগে কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর এধরনের অনিয়ম দুর্নীতি সরকারের সাফল্য ম্লান করে দিচ্ছে বলে অভিজ্ঞমহলের মন্তব্য।

বিস্তারিত

সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen + 8 =